ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেবেন নেইমার, এমন প্রত্যাশা ছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ভক্ত-সমর্থকদের মনে। তাদের বড্ড হতাশ করেছেন ব্রাজিলের সুপারস্টার। আরও হতাশার খবর সামনে আসতে যাচ্ছে! ব্রাজিল ফুটবলকে নিয়ে কল্পনা করতে গিয়ে যার মুখচ্ছবি সবার প্রথমে আসে, যিনি ইউরোপিয়ান ফুটবলে একসময় দাপট দেখিয়ে বেড়াতেন তিনিই কি না রেলিগেটেড হয়ে দ্বিতীয় স্তরের লিগে খেলতে যাচ্ছেন?
নেইমার বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হতে তার বাল্যকালের ক্লাব সান্তোসে যোগ দিয়েছেন প্রায় এক বছর হতে যাচ্ছে। কিন্তু তার দলে কোনো প্রভাব পড়েনি। বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে রেলিগেশন অঞ্চলে বসে আছে সান্তোস। হাতে আর তিন ম্যাচ। মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে এসেছে ব্রাজিলের শীর্ষ গোলদাতার ইনজুরি। এই মৌসুমে আর খেলতে পারবেন না তিনি। তাতে প্রশ্ন তোলাই যায়, এবার কি রেলিগেটেড হয়ে দ্বিতীয় স্তরের লিগে খেলতে হবে নেইমারকে?
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ইন্টার মিলান ও পিএসজির সাবেক ও বিশ্বমানের আরও তারকাকে বিস্ময়করভাবে রেলিগেটেড হতে হয়েছিল।
রিও ফার্ডিনান্ড
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে বছরজুড়ে শিরোপা জেতার পর রিও ফার্ডিনান্ড তার পেশাদার ক্যারিয়ারের শেষ বছরের রেলিগেশনে ছিটকে যেতে হয়েছিল। ম্যানইউতে লিজেন্ড মর্যাদা পাওয়া এই ফুটবলার কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সে গিয়ে এমন অস্বস্তির মধ্যে পড়েছিলেন। পরে স্বীকার করেছিলেন, লোফটাস রোডে যাওয়া ছিল ভুল সিদ্ধান্ত।
জুলিও সিজার
কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগ থেকে রেলিগেটেড হওয়া আরেক খেলোয়াড় সাবেক ইন্টার গোলকিপার সিজার। ২০১২ সালে ক্লাবটিতে যোগ দেন এই ব্রাজিলিয়ান, ফার্ডিনান্ড ক্লাবটিতে আসার দুই বছর আগে। আর প্রথম মৌসুমেই রেলিগেটেড হতে হয়েছিল তাকে। তিনি বলেছিলেন, ‘২০১২ সালে ইন্টারে সাড়ে সাত বছর কাটিয়ে ভেবেছিলাম আমি কখনো অন্য ক্লাবে খেলব না। কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সে আমাকে শেষ করতে হবে, কখনো ভাবিনি।’
ফ্রাঙ্কো বারেসি
সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার বারেসি এসি মিলানের সঙ্গে দুইবার রেলিগেটেড হয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে ক্লাব অবনমিত হয়েছিল। ওইবার ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির শাস্তি পেয়েছিল তারা। দুই বছর পর টেবিলের তলানি থেকে তৃতীয় হয়ে রেলিগেটেডের অস্বস্তিতে পড়তে হয় বারেসিকে। দুইবার এমন পরিণতি দেখলেও তিনি কখনো ক্লাব ছাড়ার কথা ভাবেননি। পুরো ২০ বছরের ক্যারিয়ার ছিলেন মিলানে।
জিয়ানলুইজি বুফন
২০০৬ সালে সিরি বি তে রেলিগেটেড হওয়া জুভেন্টাসের দলে ছিলেন বুফন। তবে দলের পারফরম্যান্সের কারণে নয়। ওইবার তারা টেবিলের শীর্ষে থেকে মৌসুম শেষ করলেও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে শিরোপা হারানোর পাশাপাশি নামতে হয় দ্বিতীয় স্তরের লিগে।
ওই স্কোয়াডে বুফনের সঙ্গে আরও ছিলেন জর্জিও কিয়েল্লিনি, প্যাট্রিক ভিয়েইরা, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো ও পাভেল নেদভেদের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা।
মাইকেল ক্যারিক
রেলিগেশনে শীর্ষ লিগ থেকে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল মাইকেল ক্যারিকের। সাবেক ইউনাইটেড মিডফিল্ডার ২০০৩ সালে ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে ছিলেন তখন। আরও এক বছর দ্বিতীয় স্তরের লিগেই তিনি খেলেছেন। তারপর ২০০৪ সালে টটেনহ্যামে চলে যান।
মাইকেল ওয়েন
নিউক্যাসলে ফ্যান ফেভারিট ছিলেন না ওয়েন। ২০০১ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী ২০০৯ সালে রেলিগেটেড হন। ২৮ ম্যাচ খেলে আট গোল করলেও রেলিগেশন থেকে দলকে বের করতে পারেননি তিনি। ১৮তম হয়ে মৌসুম শেষ করে নিউক্যাসল।
S